ডিজিটাল নোমাড

Digital Nomad কি? ডিজিটাল নোমাড কে?

বর্তমানে ডিজিটাল নোমাড শব্দটা মার্কেটে একটা বাজওয়ার্ড ক্রিয়েট করেছে। অনেকেই নিজেকে ডিজিটাল নোমাড দাবি করছে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে Digital Nomad হিসেবে প্রেজেন্ট করছে, কিন্তু এই ডিজিটাল নোমাড মানে কি? কে ডিজিটাল নোমাড? এই সম্পর্কেই এখনো অধিকাংশ মানুষ অবগত না। তো আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করবো ডিজিটাল নোমাড সম্পর্কে।

ডিজিটাল নোমাড কি?

ডিজিটাল নোমাড মূলত এক ধণের মানুষজন যারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায় এবং টেকনোলজির মাধ্যমে ঘুড়ে বেড়ানোর পাশাপাশি রিমোটলি তাঁদের কাজ কর্ম করে থাকে এবং নোমাডিক লাইফস্টাইল লিড করে থাকেন। 

১৯৯৭ সালে Tsugio Makimoto এবং David Manners দ্যা ডিজিটাল নোমাড নামে একটি বই লিখেছিলেন সেখানে থেকেই মূলত ডিজিটাল নোমাড টার্মের এর উৎপত্তি হয়। একাবিংশ শতাব্দীর টেকনোলজি রেভুলেইশন, নতুন নতুন সফটওয়্যার ইনোভেইশন, স্মার্টফোন, সস্তা ইন্টারনেট এবং ইজি এক্সসেসএবল WiFi এর জন্যই মূলত ডিজিটাল নোমাড লাইফস্টাইল সম্ভব হয়েছে। টেকনোলজি স্কিল, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট ব্যাস এই কয়েকটি জিনিস থাকলে যে কেউ ডিজিটাল নোমাড লাইফস্টাইল লিড করতে পারবে।

ডিজিটাল নোমাড কে?

একটি সার্ভেতে পাওয়া গেছে বেশির ভাগ ইয়াংগার পিপল যারা তাঁদের প্রফেশনাল লাইফে মার্কেটিং, ডিজাইন, আইটি, রাইটিং, মিডিয়া টিউটোরিং, প্রোগ্রামিং, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে তাঁরাই ডিজিটাল নোমাড লাইফস্টাইল লিড করে থাকেন। ২০২০ এর সেই সার্ভের রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু মাত্র আমেরিকাতেই ১০.৯ মিলিয়ন ডিজিটাল নোমাড রয়েছে এবং আরো ১৯ মিলিয়ন আমেরিকান রয়েছে যারা ডিজিটাল নোমাড লাইফস্টাইল লিড করতে ইচ্ছুক। ডিজিটাল নোমাড হবার জন্য যে আপনাকে ইয়াং হতে হবে এমনটিও না, ডিজিটাল নোমাডদের এভারেজ বয়স ৩৫ বছর।

আমাদের দেশের বর্তমানে হিউজ পরিমাণ মানুষ ফ্রিলান্সিং পেশার সাথে জড়িত তাঁরাও কিন্তু টেকনিক্যালি বলতে গেলে ডিজিটাল নোমাড। এছাড়া করোনা ভাইরাসের সময় লকডাউনে যারা বাসায় বসে রিমোট অফিস করছিলো তাঁরা ছিলো তখন ডিজিটাল নোমাড।

টেকনোলজির সাহায্য ইন্ডুভিউজিয়ালি রিমোটলি যারা তাঁদের কাজ কর্ম, কমিউনিকেশন ইত্যাদি করে থাকে তাঁরা সবাই ডিজিটাল নোমাড। একজন ডিজিটাল নোমাড কখনো ক্যাফে, কখনো হোটেল রুমে, কখনো বা সমুদ্রের বিচে এমনকি রাস্তায় বসেও কাজ করে থাকেন।

ডিজিটাল নোমাডদের ইনকাম কত?

অধিকাংশ ডিজিটাল নোমাড প্রচলিত নিয়েমে কোন ফিক্সড জবের মতো স্যালারি বেজড কাজ করেনা, তাই এদের ইনকামের কোন ফিক্সড ভ্যালু নেই অনেকটা ব্যবসার মতো। তারপরেও আমার কাছে ২০২১ সালের একটি সার্ভে রিপোর্ট আছে যেটা দেখলে একটা আইডিয়া পাওয়া যাবে।

  • ১৮% ডিজিটাল নোমাড বছরে ৬ ফিগারের বেশি আয় করে থাকেন।
  • ২২% বাৎসরিক ৫০ থেকে ৯৯,৯৯৯ হাজার ডলার আয় করেন।
  • ৬০% আয় করেন ৫০ হাজার ডলারের নিচে।

ডিজিটাল নোমাড লাইফস্টাইলের সুবিধা

  • প্রচলিত নিময়ের বাইরে গিয়ে ফ্রিডম লাইফ লিড করার সুবিধা।
  • ট্রাভেল করা এবং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার সুযোগ।
  • নিজের শখ, ইচ্ছা পূরণ করার সুবিধা।
  • টাইমের ওপর নিজের কন্ট্রোল থাকার সুবিধা।
  • নিজেই নিজের বস হবার সুবিধা।

ডিজিটাল নোমাড লাইফস্টাইলের অসুবিধা

  • রেগুলার ট্রাভেল করায় এক্সপেনসিভ খরচ।
  • মাল্টিপল টাইমজনে ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করার অসুবিধা।
  • ফ্যামেলি, ফ্রেন্ডদের থেকে একা দূরে থাকা।
  • ট্রাভেলকালীন যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা।

Leave a Comment